পদ্মার বালুমহালে গভীর রাতে গুলি, স্পিডবোট ভাঙচুর
ডেক্স রিপোর্ট- ভোরের শরীয়তপুর
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীর বালুমহালের খেয়াঘাটে গভীর রাতে গুলির শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দুটি স্পিডবোট ভাঙচুর ও একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে গভীর রাতে চকরাজাপুর নদীর খেয়াঘাট এলাকায় গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।
রোববার (৬ জুলাই) গভীর রাতে গুলির শব্দ শুনেছেন অনেকে। উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষীনগর মৌজায় ২৪ একর বালুমহাল এক বছরের জন্য মেসার্স সরকার ট্রেডার্স ইজারা নিয়েছেন। ইজারাদার এসএম এখলাস ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বেচাকেনা করে।
ইজারাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার বেলাল হোসেন বলেন, বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। এ বালু নিয়ে যেতে হলে বিভিন্ন স্থানে খাজনা দিতে হয়। খাজনা না দেওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয় ওয়াজেদ সিকদার বলেন, ভোরে মাছ ধরার জন্য খেয়াঘাটে এসে জানতে পেরেছি রাতে গোলাগুলি হয়েছে। এ সময় দুইটা স্পিডবোট ভাঙচুর এবং একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন নিয়ে গেছে।
স্পিডবোটের ড্রাইভার সালাম বিশ্বাস বলেন, রাতে হঠাৎ করে ৩টি নৌকায় ৩৫-৪০ জন এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় খেয়াঘাটে থাকা দুইটা স্পিডবোট নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ভাঙচুর করে এবং একটি স্পিড বোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। এ সময় ড্রেজারের মধ্যে থাকা ড্রাইভাররা ভয়ে নদীর ঘাট থেকে উপরে উঠে নিজেদের রক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে চলে যায়।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের একজন গ্রামপুলিশ জানান, গোলাগুলি শুরু হলে কয়েকজন ড্রেজার মেশিনের ড্রাইভার আমার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকার বলেন, ইজারা নিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। খাল এন্টারপ্রাইজ স্লিপ দিয়ে খাজনা আদায় করে। এ খাজনা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা হয়তো এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
চারঘাট নৌপুলিশ ইনচার্জ হুমায়ূন রশীদ বলেন, ইজারার মাধ্যমে পদ্মায় বালু তোলা হচ্ছে। এসব বালু বিক্রি করা নিয়ে দ্বন্দ্বে হয়তো রাতের অন্ধকারে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এ বিষয়ে নৌপুলিশের পক্ষে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।